মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লিবারেশন ডে শুল্কনীতি বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দেয়। অনিশ্চিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও এর প্রভাব মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাজারে খুব একটা অস্থিরতা তৈরি করেনি। আগের মাসের তুলনায় এপ্রিলে দেশটির সরকারি ঋণে বিদেশী বিনিয়োগ খুব সামান্যই কমেছে। খবর এফটি।
মার্কিন অর্থ বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংসে বিদেশী বিনিয়োগ আগের মাসের তুলনায় ৩ হাজার ৬১০ কোটি ডলার কমে ৯ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে। এর আগে যা মার্চে রেকর্ড সর্বোচ্চ ছিল।
গত ২ এপ্রিল বাণিজ্য অংশীদারের ওপর বড় মাত্রার শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে বাজারের বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন বন্ডের সুদহার বেড়ে যায়। এক সপ্তাহ পর আরোপিত শুল্কের বড় অংশ স্থগিত করলেও বাজার পুরোপুরি স্থির হয়নি।
বর্তমানে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মালিক। তাদের চাহিদার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে কর না বাড়িয়ে বা ব্যয় হ্রাস না করেই সরকার পরিচালনায় ব্যাপক ঋণ নিতে পারছে।
চীনের কাছে থাকা মার্কিন বন্ডের পরিমাণ এপ্রিলে কমে ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন ৭৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বেলজিয়ামে থাকা ট্রেজারি হোল্ডিংস বেড়েছে, যা সাধারণত চীনের অফশোর হোল্ডিংস হিসেবে বিবেচিত হয়।
কানাডা সবচেয়ে বেশি ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করেছে, যার পরিমাণ ৫ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা দেশ জাপান ও যুক্তরাজ্য তাদের বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়েছে।
ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত এ পরিসংখ্যানে এপ্রিলজুড়ে বন্ডের বাজারমূল্য পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়নি।